রোজায় মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে যা যা করণীয়

0
49

রোজায় সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও সঠিকভাবে মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা না হলে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। এ জন্য রমজানে মুখের বাজে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য দাঁত পরিষ্কারের বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার পরপরই উচিত ব্রাশ করার। এতে করে মুখে খাদ্য কণা থাকবে না। ফলে কোনও দূর্গন্ধও সৃষ্টি হবে না।

কয়েকটি নিয়ম মানলেই রোজায় মুখের দুর্গন্ধ এড়ানো যেতে পারে।

জেনে নিন যা যা করণীয়-

দাঁত ব্রাশ করুন:

রোজায় অন্তত দুই বার ব্রাশ করতে হবে। এ সময় সাহরির পর থেকে ইফতার পর্যন্ত উপবাস থাকেন সবাই। সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে মুখে দুর্গন্ধ হতেই পারে। তবে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ হলো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পচনের কারণে।

তাই সাহরির পরপরই ব্রাশ করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হবে না। এজন্য সাহরির পরে দাঁত ব্রাশ করেই ঘুমানো উচিত৷ আবার ইফতারের পরও একবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

মিষ্টি খেলে যা করবেন:

ইফতার এবং সাহরির সময় মিষ্টিজাতীয় অনেক খাবারই খেয়ে থাকেন নিশ্চয়ই! মিষ্টি খাওয়ার পরে কিন্তু দাঁত ব্রাশ করতেই হবে। সে আপনি যখনই খান না কেন! কারণ মিষ্টিতে যে শর্করা জাতীয় উপাদান থাকে তা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে৷

পেটের সমস্যা থাকলে:

রোজার সময় অ্যাসিডিটি বা গ্যাসট্রিকের সমস্যা সবারই কমবেশি হয়ে থাকে। এ কারণেও অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে৷ পেটের সমস্যা ছাড়া, নাক, কান বা গলায় প্রদাহের কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে। সেক্ষেত্রে নাক-কান-গলা অর্থাৎ ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন৷

জিহ্বায় প্রদাহ থাকলে:

জিহ্বার উপরে খাদ্যের প্রলেপ জমে সাদা স্থর পড়ে যায়৷ একসময় সেখানে জীবাণু হয়৷ এর ফলে প্রদাহ থেকে ভলাটাইল সালফার কম্পাউন্ড তৈরি হয় এবং মুখে দুর্গন্ধ হয়৷

আর এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিন দু’বেলা দাঁত ব্রাশ করার আগে টাং স্ক্র্যাপার বা জিবছোলা দিয়ে জিব পরিষ্কার করুন৷

পেঁয়াজ-রসুন কম খাওয়া:

রোজায় ভাজাপোড়া বা পেঁয়াজ-রসুন কম খাওয়া উচিত। এতে মুখের দুর্গন্ধও কম হবে সঙ্গে শরীরও সুস্থ থাকবে। তার চেয়ে বরং ফল ও সালাদ বেশি খাওয়া উচিত৷ পেঁয়াজ-রসুনের কারণে মুখে বাড়তি দুর্গন্ধ হয়। পেঁয়জ-রসুন খেলে সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করে নিন৷

কুলকুচি করুন:

সাহরির পরে দাঁত ব্রাশ করার আগে কুলকুচি করে নিতে হবে। এরপর ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা যতটা সম্ভব বের করে দিন৷ তারপর ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয় মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন৷

মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে:

রোজায় দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে অনেকেরই রক্ত পড়ে৷ ভিটামিন স্বল্পতার কারণে এমনটি বেশি হয়৷ মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে ইফতারিতে বেশি করে ভিটামিনজাতীয় ফল খেতে হবে।

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে।