সুনামগঞ্জে ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ

0
51

সুনামগঞ্জের সুরমা নদী থেকে উজানের পানির ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকা। এর ফলে জেলার ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এজন্য ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িক বন্ধ রেখেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়েছে জেলার কয়েক হাজার মানুষ। রাস্তা-ঘাট ভেঙে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাওরবাসীদের। এতে করে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই ও শাল্লা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। থাকা খাওয়াসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষ। এছাড়া জেলার চার উপজেলার জেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সবকটি উপজেলার মৎস্য চাষিদের খামার তলিয়ে ভেসে গেছে মাছ। বুধবার (১৮ মে) বিকেলেও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। স্থানীয়রা জানান পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়ছেই, কমছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে উচ্চ ফলনশীল বোরো ধান, বাদাম, কৃষি ফসল।

মৎস্য চাষি সিরাজ মিয়া বলেন, তার পাঁচটি পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। তার মতো উপজেলার অধিকাংশ খামারির মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত তারা।

জেলার পাঁচটি উপজেলার ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান। এছাড়া ২৮টি বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানি কমলে বিদ্যালয় খুলবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুদ্দোহা বলেন, সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ে ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সন্ধা ৬টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, এদিকে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ না হলেও উজানের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বুধবার (১৮ মে) বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ৭. ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। উজানের আসাম ও চেরাপুঞ্জির ঢলের পানি নামা অব্যাহত থাকায় জেলার ছাতক দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমাসহ সকল নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। বুধবার (১৮ মে) বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ৯.৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।