August 8, 2022

সুখবর দিলেন বিজ্ঞানীরা, নারিকেলি চেলা ও তিত পুঁটির কৃত্রিম প্রজননে প্রযুক্তি উদ্ভাবন

নারকেলি চেলা, মাছটি অনেকের কাছে চেনা। তিত পুঁটি মাছ ঘিরে অনেক পরিবারে আছে রকমারি খুনসুটি। এই দুই জাতের মাছ কয়েক দশক ধরে বাঙালির খাবারের পাতে নেই। হেঁটেছে বিলুপ্তির পথে। তবে সুখবর দিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা। আবার মিলবে নারকেলি চেলা (Salmostoma bacaila) আর তিত পুঁটি (Pethia ticto)।

বিএফআরআইর বিজ্ঞানীরা দেশে প্রথমবারের মতো মিঠাপানির বিপন্ন এই দুই প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র থেকে নারকেলি চেলা এবং ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্র থেকে তিত পুঁটি মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের সফলতা আসে গত মে মাসে।

মঙ্গলবার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চেলা মাছের প্রজনন গবেষণায় ছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার রশীদুল হাসান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হায়দার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তাশরিফ মাহমুদ মিনহাজ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শ্রীবাস কুমার সাহা। অন্যদিকে, তিত পুঁটি মাছের গবেষণায় ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. অনুরাধা ভদ্র, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিনা ইয়াসমিন।

গবেষক শাহীন আলম বলেন, মলা, ঢেলা, পুঁটি একসময় ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির অন্যতম উৎস। একটি সময় এসব মাছ প্রাকৃতিক জলাশয়ে কমতে থাকে। মানুষের পাতে এসব বিপন্ন মাছ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএফআরআই।

নারকেলি চেলা কোনো কোনো অঞ্চলে কাটারি নামে পরিচিত। মাছটি বাস করে নদী, পুকুর, বিল, হ্রদ ও খালের তলদেশে। সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছটি বেশ জনপ্রিয়। এ মাছের প্রাচুর্যতাও প্রকৃতিতে ব্যাপকভাবে কমেছে। প্রজাতিটিকে বিপন্নের হাত থেকে বাঁচাতে স্বাদুপানি উপকেন্দ্র সৈয়দপুরের বিজ্ঞানীরা ২০২১ সালে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও চিকলী নদী থেকে ৫-৭ গ্রাম ওজনের নারকেলি চেলা মাছ সংগ্রহ করে উপকেন্দ্রের পুকুরে গবেষণা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি মাছটির কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনে প্রাথমিক সফলতা অর্জন করেন।

অন্যদিকে তিত পুঁটি মাছটি একসময় বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর, বাঁওড় ও পুকুরে প্রচুর পাওয়া যেত। আইইউসিএন ২০১৫-এর তথ্য অনুযায়ী, মাছটি বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় ২০২১ সালে ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এবং ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পুঁটি সংগ্রহ করে কেন্দ্রের পুকুরে গবেষণা কাজ শুরু করেন। গত মে মাসে তিত পুঁটি মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনে প্রাথমিক সফলতা আসে।

নারকেলি চেলা ও তিত পুঁটি মাছের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে এখন পোনা ও চাষ সহজ হবে। পাশাপাশি মাছ দুটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। এখন মাছ দুটি নিয়ে অধিকতর গবেষণা চলছে।

বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশে বিপন্ন ৬৪ প্রজাতির মাছের মধ্যে নারকেলি চেলা, তিত পুঁটিসহ মোট ৩৬ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব হয়েছে। বাকি দেশীয় বিপন্ন মাছকে পর্যায়ক্রমে চাষের আওতায় আনার গবেষণা চলছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.