August 8, 2022

ট্রলার না দেওয়ার হুমকি, ফারাজ বললেন- প্রয়োজনে সাঁতার কেটে যাবো

সিলেটে বন্যা দূর্গত মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান ফারাজ করিম চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তার। বিশেষ করে সমাজের বিভিন্ন মানবিক ও্ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার ব্যাপক ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের বন্যা কবলিত সিলেট ও সুনামগঞ্জের মানুষদের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি।

গত কয়েকদিন ধরেই বন্যা কবলিত এলাকাতেই অবস্থান করছেন এই যুবক। সেখানে বানভাসী মানুষদের জন্য শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল সাহায্য দিয়ে পাশে থাকছেন। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাঠানো সহায়তা নিয়ে বন্যার্তদের মাঝে পৌছে দিচ্ছেন তিনি।

তবে বানভাসী মানুষদের সহযোগিতা করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতা, বাধা মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাকে। অসহায় মানুষদের কাছে ত্রান পৌছে দিতে তাকে যেতে হচ্ছে বন্যা কবলিত দূর্গম এলাকাতে। এজন্য ট্রলার ব্যবহার করতে হচ্ছে তাকে। তবে সেখানে কিছু ট্রলারের মালিক-মাঝিরা অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে (২২ জুন) ফারাজ চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টও করেছেন। সেখানে তিনি জানান, ট্রলারমালিকরা ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা ভাড়া ৮৭ হাজার চাচ্ছেন। বিডি২৪লাইভ-এর পাঠকদের জন‌্য ফারাজ করিম চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

ত্রাণ দেওয়ার জন্য প্রথমে যখন ট্রলারে উঠি, তখন শুধু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছিল। তাদের সাথে খাবার ভাগ করে খেয়েছিলাম। একজন মানুষ অন্য মানুষের সাথে যেভাবে আচরণ করে ঠিক সেভাবেই করছিলাম। ধর্ম আমাকে যা শিখিয়েছে সেভাবেই তাদের সাথে সময় অতিবাহিত করেছি। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তারা আমাকে কিছু কিছু এলাকায় ত্রাণ বিতরণ থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে। যে জায়গায় ট্রলার নিয়ে যেতে ৪ ঘণ্টা লাগবে, সেখানে ৮ ঘণ্টা লাগবে বলে ভাড়া নির্ধারণ করতে চেয়েছে। সবশেষে দেখি, যে ভাড়া ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা, সেই ভাড়া ৮৭ হাজার টাকা চাচ্ছে।

আমি জানি, ট্রলারমালিক ও মাঝিদের খরচ আছে। তারাও অনেক কষ্টে আছেন। তবে সবাইকেই সহনশীল হতে হবে। মানুষ তাদের টাকা আমার কাছে আমানত হিসেবে দিয়েছে। সেই টাকা থেকে ১টিও আমি অপচয় করতে পারবো না।

ট্রলারমালিক ও মাঝিদের যা পাওনা আছে তা যথার্থভাবে পরিশোধ করে দেবো। তাদের ঠকাবো না। অযৌক্তিক ভাড়া চাওয়া ও বেশি টাকা না দিলে আগামীতে ট্রলার না দেওয়ার যে হুমকি, সেই হুমকি না দেওয়াই তাদের জন্য উত্তম। মানুষের সেবা করার শক্তি যখন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দিয়েছেন, তখন প্রয়োজনে সাঁতার কেটে সেখানে চলে যাবো।

ফারাজ করিম চৌধুরীর এ বক্তব্য সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। একের পর এক ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে দেশেজুড়ে তিনি অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.